কুহকী আশা। জেমস হ্যাডলি চেজ

KUHOKI ASHA

JAMES HADLEY CHASE

প্যারাডাইস এভিন্যুর ট্রুম্যান বিল্ডিং এর টপ ফ্লোরে "পারনেল ডিটেকটিভ" এজেন্সির অফিস। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণাধার "ভিক্টর পারনেল"। আটলান্টিকের উপকূলে যতগুলো গোয়েন্দা সংস্থা আছে তার মধ্যে এটি বিখ্যাত। কোটিপতি পারনেল বেশ অভিজাত ভাবেই এই সংস্থা গড়ে তোলার জন্য যা পুজি প্রয়োজন তা ব্যবহার করেছেন। তার অফিসের অপারেটর কুড়ি জন, টাইপিস্ট দশজন, তিনজন অ্যাকাউনটেন্ট, চার্লস এডোয়ার্ড ও তার ব্যক্তিগত সহকারী গ্লেন্ডা কেরী। 

 

 কুড়িজন সবাই প্রাক্তন পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে ছিলেন। দুজনে মিলে জুটি করে কাজ করা হয়। তাদের মধ্য অন্যতম হলো চিক বার্লি ও বার্ট আন্ডারসন। এজেন্সিটি যেমন ডিভোর্স, বাবা মার সমস্যা, ব্লেকমেইল, অত্যাচার, স্বামী বা স্ত্রীর উপর নজর রাখা ইত্যাদি নানান ধরনের কাজ করে।

 

 গ্রীষ্মের এক দুপুরে বার্ট বসেছিল তার ডেস্কে। সে এমন একটা চরিত্র যার পকেটে টাকা থাকে না। পারনেল তাকে যথেষ্ট ভালো বেতন দেন কিন্তু মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তার পকেট ফাকা। এর ওর কাছ থেকে তার ধার করে চলতে হয়। বিয়ে করে নি কিন্তু বান্ধবী বা শয্যাসঙ্গিনী বলা যায় এমন একজন আছেন সে হলো বার্থা। সে একটা ফ্যাশন হাউজে কাজ করে। একা চলে তবুও তার হাত গলে টাকা বেড়িয়ে যায়। এখন যেমন পকেট খালি অবস্থা। বার্ট চিকের থেকে একশ ডলার ধার চাইলো। কথা বা কটুক্তি যাই হোক চিক তাকে পঞ্চাশ ডলার দিতে রাজি হলো। এমনি সময় বেজে উঠলো বার্জার। চিক স্পেস করতেই গ্লেন্ডা জানাল, কর্নেল বার্ট কে দেখা করতে বলেছেন।

 

 কর্নেল এর অফিসে যাওয়ার পর গাঁট্টাগোট্টা টাইপের একজন কে দেখিয়ে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি হলেন বেস্ট সেলার লেখক "রাস হ্যামেল" এর ম্যানেজার মি পামার । বার্ট হাত মিলালো এবং বুঝতে পারল নতুন কোন কেস অবশ্যই। পারমেল জানালো রাস হ্যামেল বয়সে ৪৮ এবং তার স্ত্রী ন্যান্সি ২৫। কিছুদিন যাবত তিনি তার স্ত্রী এর নামে কিছু উড়ো চিঠি পাচ্ছেন। চিঠি গুলো এমন যে ন্যান্সি কারো সাথে পরকীয়া করছে। এবয়সে স্ত্রী সম্পর্কে এসব কথা বার্তা মোটেও পছন্দ হবার কথা না। তাছাড়া এ চিন্তার হ্যামেল এর লেখা ঠিক আগাচ্ছে না। তিনি চান তার স্ত্রী উপর নজর দারি করতে। একারনেই পামার এখানে এসেছেন। বার্ট বুঝলো তার কি কাজ এবং সেজন্য পামার এর কাছে ন্যান্সি দেখতে কেমন আর তার কাজের বিবরণ জানতে চাইলো। চিঠি গুলো দেখে বুঝতে পারল কারমাইকেল নামে কারো সাথে ন্যান্সির সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।

 

 বার্ট অফিসে ফিরে চিক কে কারমাইকেল নামে ব্যাক্তির খোজে পাঠল। আর নিজে হাটলো ন্যান্সির খোজে। দুপুরের এসময় তার কান্ট্রি ক্লাবে থাকার কথা। বার্ট গিয়ে পৌছালো। যথারীতি ন্যান্সিকে সাদা টিশার্ট এবং সাদা শর্টস পড়া এবং সাথে তার বান্ধবী পেনি হিগবিকে আসতে দেখা গেলো। বার্ট অবাক হলো, সত্যিই ন্যান্সি দেখতে বেশ সুন্দরী। ন্যান্সির ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে কোথাও কোন নেগেটিভ কিছু পেল না। এমন কি একদিন বার্থার মুখেও শুনল মেয়েটা টেনিস খেলা আর মাছ ধরা ছাড়া আর কিছু জানে না। 

 ন্যান্সিকে প্রতিদিন ইয়ট নিয়ে সমুদ্রে যেতে দেখে, তাতে বার্ট তার বন্ধু নিক হার্ডের হেলিকপ্টারে করে তাকে অনুসরণ করলো। প্যারাডাইস সিটির দক্ষিন পূবে উপসাগরে ত্রিশ মাইল দূরে ছোট ছোট দ্বীপ আছে। এগুলো কে বলা হয় জলদস্যু দ্বীপ। যা মিশে গেছে কী ওয়েস্টের সঙ্গে। ইয়ট হঠাৎ দুটো দ্বীপের মাঝখানে ঘন ঝোপঝাড়ের আড়ালে চওড়া একটা খাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ল। অদৃশ্য হয়ে গেল স্পানিশ ঝাড় আর আঙ্গুর লতার মাঝে। 

 বার্ট পরদিন গেলো সেই জলদস্যু দ্বীপে বা পাইরেটস আইল্যান্ডে যেখানে ইয়ট টা হারিয়ে গেছিলো। খুব সাবধানে খুব সতর্ক হয়ে পৌছে গেছিলো সে। কিন্তু...

 তাহলে ন্যান্সি কি আসলেই পরকীয়ায় লিপ্ত... না হলে এই নির্জন দ্বীপে সবুজ ক্যানভাসের তাবু কেন.. কিন্তু শহরে এত কিছু থাকতে এখানে কেন..?

 

 পৃষ্ঠার পাতা উল্টালে পাওয়া যাবে আরো দুটি চরিত্র তারা হলেন পোফারি ও তার স্ত্রী লুসিয়া পোফারি। হঠাৎ করে বার্ট পায় একটা লাইটার। এবং তা থেকে পাওয়া যায় অসামান্য লোকের হাতের ছাপ..! কে এই গুরত্ব পূর্ণ ব্যক্তি..! বের হতে থাকে ন্যান্সি নিষকলঙ্ক নয়। বার্থ একসময় বার্ট কে চুষে নিতে নিতে বাতলে দেয় নতুন পথ। বার্ট ভাবে, চিন্তা করে। অনেক গভীর থেকে চিন্তা করে, তার এই অভাব..!? সময় তো এখনি ছিবড়ে নেওয়ার। এক সময় বার্ট কেই ভিলেন মনে হয়, আবার লেখক রাস হ্যামলে ও সন্দেহ থেকে বাদ যায় না। কিন্তু তার ভেতরে তো থেকে গেলো অনেক ইতিহাস.!? এমন কি মূল রহস্যটাও! এত বড় আশা কি শুধুই কুহকী..!?

ডাউনলোড
কুহকী আশা