জলরাক্ষস। মাসুদ রানা। ৩৮১

JOLRAKKHOSH
MASUD RANA SERIES
BOOK NUM : 381

কাজী আনোয়ার হোসেন
সেবা প্রকাশনী

এইম ফ্যাসিলিটির পূর্ণনাম অল্টারনেটিভ ইন্টেলিজেন্স মেরিন ফ্যাসিলিটি। এর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অরিগনে। এদের গবেষনার ধরন বেশ আলাদা। সমুদ্রের ম্যামাল টাইপ প্রাণী যেমন তিমি, ডলফিন এদেরকে ট্রেনিং দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার উপযোগী করার গবেষনা। নির্দিষ্ট ওই দিনটিতে সেখানকার প্রধান কমান্ডার পারকার অ্যাডমিরাল ওয়ালেসকে নিয়ে যাচ্ছেন এই প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখাতে। ওয়ালেস খুশি হলে তার প্রতিষ্ঠানের অর্থবরাদ্দ আরো বাড়বে। অ্যাডমিরাল ওয়ালেস মোটামুটি সন্তুষ্ট হন সব দেখে তবে তার আগ্রহ জাগে একটি বিশেষ প্রাণীর প্রতি। বিশেষ ভাবে ট্রেনিং দিয়ে গড়ে তোলা একটি বিরাট কিলার হোয়েল। সাধারন কিলার তিমির চেয়ে এটি বড় ও অনেক বুদ্ধিমান। ট্রেনিং দিয়ে একে গড়া হয়েছে একটা লিভিং কিলিং মেশিন। বিশেষ ইঙ্গিত দেখলেই এই প্রাণী হামলা চালাতে তৎপর হয়। কমান্ডার পারকারের সর্তকতা ভুলে নিজের অজান্তে তেমন একটি ইঙ্গিত করে ফেলেন অ্যাডমিরাল ওয়ালেস। ফলে হঠাৎই খুনী তিমি তার এক হাত কামড়ে নিয়ে যায়। রাগান্বিত কর্মীগণ গুলি চালানো শুরু করে। একটি গুলি লাগে ওরকার গায়ে। প্রাণ বাচাতে সে তাকে ঘিরে রাখা জালের বেড়া ডিঙিয়ে খোলা সাগরে চলে যায়। বাংলাদেশী বিজ্ঞানী আদনান মনসুরের সাহায্যের মেসেজ পেয়ে আর্কটিকে ছুটছে মাসুদ রানা। সাথে নিয়েছে তার এস্কিমো বন্ধু জুনোকে যে বরফের রাজ্য খুব ভালোমতো চিনে। যাওয়ার পথে প্লেনেই দেখা ও এয়ারপোর্টে পরিচয় হয় তার মেয়ে মনিকার সাথে। মনিকা বাবার সহকারী হিসেবে যোগদান করতে সেখানে যাচ্ছে। আদনান মনসুর দুটি বিশেষ আবিষ্কার করেছেন যার একটি হয়েছে অনিচ্ছাকৃত। প্রথমটি বেশ উপকারী। গাছের আয়ু বৃদ্ধি করেছেন তিনি। উদাহরনস্বরুপ ধানগাছ একবার লাগালেই হবে। বারবার লাগানো লাগবেনা। একবারেই ধানগাছ নিয়মিত ফলন দিয়ে যাবে। দিত্বীয়টি হচ্ছে একটি রাসায়নিক অস্ত্র যা ভুলে আবিষ্কার হয়ে গেছে। বারো নামক একটি অঞ্চলে নুমার গবেষনা প্রতিষ্ঠান ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এদিকে কিভাবে যেনো বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থারা এসব আবিষ্কারের কথা কিছুটা জেনে গেছে। তারা বিজ্ঞানীকে ভয় দেখাচ্ছে আবিষ্কারটা কি তা না বলা হলে তাকে মেরে ফেলা হবে। এজন্য বিজ্ঞানী চান একটি নিরাপদ হাতে এই আবিষ্কার তুলে দিতে। সেখানে আরো একজন লোকের সাথে তাদের দেখা হয়। নুমার অন্যতম গুরুত্বর্পূণ দায়্ত্বিরত জন অষ্টিন যার সাথে রানার অতীতে একটা খারাপ অধ্যায় রয়েছে। অষ্টিন রানাকে প্রচন্ড ঘৃণা করে। তারপরও এবারে তাদের একসাথে কাজ করতে হবে। বারোর কাছাকাছি যাওয়ার পর আইসবার্গে রানাদের প্লেন মুখ থুবড়ে পড়ে। একজন পাইলট মারা যায়। বাকিরা বেচে যায়। আইসবার্গের গ্রেসিয়ারে তাদের আটক হয়ে থাকতে হয় উদ্ধারকর্মীরা না আসা পর্যন্ত। ততোদিন থাকার জন্য কেম্প বানায় তারা। হঠাৎ সেখানে একটি গ্রিজলী ভালুক হানা দেয়। অনেক কষ্টে সেটাকে বিদায় করে ওরা সবাই। কিন্তু পালানোর সময় মাটির সবচেয়ে বড় মাংসাশীকে হামলা করে জলের সবচেয়ে বড় মাংসাশী প্রাণী। প্রায় বিশটা কিলার তিমির দল। সেখানকার বুদ্ধিমান লিডারের রয়েছে মানুষের প্রতি তিব্র ঘৃণা। এই মানুষ গুলি করে একবার তাকে খুন করতে চেয়েছিলো। সেইসাথে মানুষের মাংসের স্বাদ তার লেগেছে অসম্ভব ভালো। তিমিরা বুঝতে পারে তাদের প্রীয় খাবার বরফের উপরেই ঘোরাফেরা করছে। অতত্রব বুদ্ধিমান তিমিগুলো বরফের পাতলা স্তর ভেঙে হামলা চালিয়ে যাকেই চোয়ালের কাছে পায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পুরো দলটি। তবে এতোকিছুর মধ্যেও তাদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ থেকেই যায়। এই বিভেদ রানা ও অষ্টিনের মধ্যে। পাশাপাশি অষ্টিনের কুদৃষ্টি রয়েছে মনিকার প্রতি। এদিকে মনিকা আবার রানার প্রতি আগ্রহী। তা আরো অসহ্য হয়ে উঠে অষ্টিনের। এদিকে তিমিগুলো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। সাতজনের এই দলটি থেকে একজন একজন করে তিমিদের শিকার হতে শুরু করে। তাদের বিপদ আরো বাড়িয়ে তোলার জন্য প্রায় দুশো সিন্ধু ঘোটকের দল সেই গ্রেসিয়ারেই আশ্রয় নেয় যাদের সাথে রয়েছে কিলার তিমিদের শত্রুতা। তবে এতোকিছুর পরও লিডারের মাথায় রয়ে গেছে শুধু একটাই চিন্তা। মানুষের মাংস খেতে হবে। এ অবস্থায় দৈত্যাকার এই প্রাণীদের বিরুদ্ধে কিভাবে বেচে থাকবে রানাদের দল। আর বাচবেই বা কয়জন? সেটাও কিভাবে? বাচতে হলে উপায় একটাই। লিডার তিমিটাকে মারতে হবে। কিন্তু এতোবড় দৈত্যকে মারার মতো অস্ত্র আছে কিনা সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। ক্রেচার থ্রিলার হিসেবে বইটি বেশ সুন্দর। ভিন্ন ধরনের মানুষখেকো প্রাণী আনা হয়েছে। ওরকা সাধারনত মানুষ খেয়েছে কখনো শোনা যায়নি তবে মানুষের ওপর হামলার রেকর্ড এই প্রাণীদের আছে। নিরীহ চেহারার ভয়ঙ্কর এই প্রাণীদের বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন সাগরের নেকড়ে। মূলত ডলফিন, সীল, পেঙ্গুইন এদের প্রীয় খাবার। এছাড়া এরা অন্য তিমির ওপরও হামলা করে তবে শুধু জীবটা ছাড়া আর কিছুই খায় না। এরা থাকে দল বেধে, হামলা করে একসাথে। প্রচন্ড বুদ্ধিমান এই প্রাণী। সুন্দর ও ভয়ঙ্কর এদের শিকার পদ্ধতি। চলুন দেখা যাক শেষপর্যন্ত কি হয়...

জলরাক্ষস পিটার টনকিন এর ক্রিয়েচার হান্টিং থ্রিলার "কিলার" এর ছায়া অবলম্বনে লেখা।

ডাউনলোড
জলরাক্ষস