হুমায়ুন আহমেদের এবং হিমু

আমি হাসপাতালের সিঁড়িতে চুপচাপ বসে আছি ৷ রূপা তার কথা রেখেছে ৷ এপয়েন্টমেন্ট লেটার পাঠিয়েছে ৷ আমাকে না পেয়ে ইরার হাতে দিয়ে এসেছে। ইরা সেই চিঠি নিয়ে প্রথমে গেছে আমার মেসে। সেখানে সব খবর শুনে একাই রাত 

এগারটার দিকে এসেছে হাসপাতালে ৷ বদরুল সাহেবের জন্যে খুব ভাল একটা চাকরির ব্যবস্থা করেছে রূপা I আট হাজার টাকার মত বেতন I কোয়ার্টার আছে I বেতনের সাত পার্সেন্ট কেটে রাখবে কোয়ার্টারের জন্যে ৷ রাত বারটার দিকে বদরুল সাহেবের অবস্থা কি খোঁজ নিতে গেলাম I ইরাও এল আমার সঙ্গে সঙ্গে I ডাক্তার সাহেব বললেন, অবস্থা ভাল না I জ্ঞান ফিরেনি ৷ 


‘জ্ঞান ফেরার সম্ভাবনা কি আছে?’ 


‘ফিফটি ফিফটি চান্স ।


আমি বললাম, ডাক্তার সাহেব, এটা একটা এপয়েন্টমেন্ট লেটার। আপনার কাছে রাখুন I যদি জ্ঞান ফিরে উনার হাতে দেবেন। যদি জ্ঞান না ফিরে ছিড়ে কুচি কুচি করে ফেলবেন। আমি হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছি I এখন কাঁটায় কাঁটায় রাত বারটা-জিরো আওয়ার ।আমার রাস্তায় নামার সময় I ইরা বলল, কোথায় যাচ্ছেন?


আমি ক্লান্ত গলায় বললাম, কোথাও না । রাস্তায় হাঁটবাে ৷ ‘আপনার বন্ধুর পাশে থাকবেন না?’ 


‘না ।’ 


ইরা নিচু গলায় বলল, হিমু ভাই, আমি আপনার সঙ্গে হাঁটতে পারি? শুধু একটা রাতের জন্যে? 


আমি বললাম, অবশ্যই পার ৷ 





ইরা অস্পষ্ট স্বরে বলল, আপনাকে যদি বলি আমার হাত ধরতে, আপনি রাগ করবেন? 


আমি শান্ত গলায় বললাম, আমি রাগ করব না ৷ কিন্তু ইরা, আমি তোমার হাত ধরব না I 


হিমুরা কখনো কারো হাত ধরে না।







ebong himu written by humayun ahmed