oliver twist | অলিভার টুইস্ট। চার্লস ডিকেন্স

অলিভার টুইস্ট বিশ্ববরেণ্য লেখক চার্লস ডিকেন্সের লেখা একটি বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস। এই উপন্যাসে তৎকালীন সময়ের অনাথ শিশুদের অবস্থা এক অনন্য ও চোখে পানি আসার মত বর্ণনায় মাধুর্যমন্ডিত করেছেন। এটি শুধুমাত্র একটি উপন্যাসই নয়, এক বিদ্রোহী মানবদলিলও বটে।

 

 অলিভার উনবিংশ শতাব্দির প্রথম দিকে ‘মাডফগ’ নামক ইংল্যান্ডের এক পুরাতন কর্মশালায় জন্মগ্রহণ করে। তার জন্মের সময়ই তার মা মারা যায়। তার পিতা তাকে ছেড়ে চলে যায়। ফলশ্রুতিতে তাকে অনাথ আশ্রমে পাঠানো হয়, যেখানে সে অন্যান্য বাচ্চাদের মতই অকারণে শাস্তি পেত এবং অখাদ্য খাবার খেত। তাকে সারাদিন কাজ করতে হত। কিন্তু কৃত কাজের পরিমাণের ছিঁটেফোঁটা খাবারও সে পেত না। একদিন সে ঐ আশ্রমের পরিচালক মি. বাম্বলের কাছে গিয়ে সেই বিখ্যাত উক্তি করে, “স্যার, দয়া করে আমাকে আরেকটু দেবেন?” এর শাস্তিস্বরূপ তাকে ঐ আশ্রমে বন্দী করা হয় এবং ৫ পাউন্ডে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মি. সাওয়ারবেরি তাকে নিয়ে যায় এবং অন্য যেকোন কারও চেয়ে ভাল ব্যবহার করে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী অলিভারকে দু’চোখে দেখতে পারে না এবং প্রায়শই তাকে অভুক্ত রাখত। অলিভার ক্রমশই তার কাজ দেখিয়ে উন্নতি করছিল। তাই অলিভারের মতই যে ঐ বাড়িতে কাজ করত, সেই নোয়া তার প্রতি ঈর্ষাগ্রস্ত হয় এবং অলিভারের মাকে নিয়ে উল্টো-পাল্টা কথা বলে। অলিভার নোয়াকে মারধোর করে। তাকে বন্দী করা হয় এবং মি. বাম্বল ও সাওয়ারবেরীকে বলা হয় যেন তারা অলিভারকে মারে। অলিভার ঠিক করে, সে পালিয়ে যাবে।

 

 অলিভার ভাগ্যান্বেষণে লন্ডনে যায়। কিন্তু সেখানে সে তার বন্ধু জ্যাক-এর পাল্লায় পড়ে এক পকেটমার সংস্থার সাথে যুক্ত হয়, যার মালিক ফ্যাগিন।

 

 অলিভারকে পকেটমারের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যখন তাকে তার প্রথম অভিযানে পাঠানো হয়, সে এক পর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং তাকে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু এই ঘটনা যে দেখেছে সে সাক্ষী দেয়, যে অলিভার নির্দোষ, ছিনতাই অন্য একজন করেছিল। যার পকেটমার হতে যাচ্ছিল, সেই মি. ব্রাউনলো’র দয়ায় সে মুক্তি পায় এবং তাদের বাড়িতে ওঠে। বাড়িতে ব্রাউনলোর বোনের ছবির সাথে অলিভারের অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যখন সে থিতু হতে শুরু করে, তাকে সাইক্‌স ও ন্যান্সি নামের ঐ দলের দুজন চাতুরী করে তাকে ধরে নিয়ে যায়। এবার তাকে সাইক্‌সের সাথে এক বার্গলারী ব্যবস্থা ভাঙার জন্য সহায়তা করতে হবে। 

 

 কাজটি ভন্ডুল হয়ে যায় এবং অলিভার গুলিবিদ্ধ হয়। এবার যাদের বাসায় চুরি হতে যাচ্ছিল, তারা (মায়ালিন) অলিভারকে আশ্রয় দেয়। এদিকে ন্যান্সি, ফ্যাগিনের দলের একজন, অলিভারের জন্য চিন্তায় পড়ে যায়, এবং অলিভারের আশ্রয়দাতাকে সব খুলে বলে। যখন ফ্যাগিন এই বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানতে পারল, সে ন্যান্সিকে খুন করে। 

 

 এদিকে মায়ালিন অলিভারের আগের আশ্রয়দাতাকে খবর দেয়। জানা যায়, অলিভারের আঙ্কেল হচ্ছেন ব্রাউনলো। তিনি পুনরায় তাকে নিজবাড়িতে নিয়ে যায়। ঘটনাক্রমে ফ্যাগিন ধরা পড়ে এবং তার কুকর্মের জন্য তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। অলিভার তার নিজ পরিবারের সাথে মিলিত হল, তাদের শান্তিময়-আনন্দময় জীবন শুরু হল।

 

 চার্লস ডিকেন্স উনবিংশ শতাব্দির শিল্পায়নের অপকারিতাকে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ফুটিয়ে তুলেছেন। শিল্পায়নের ফলে অলিভারের মত ছোট নিষ্পাপ শিশুদের কঠিন কাজ করানো হত। তাদের মত দরিদ্র শিশুদের পথ তখন দুটোঃ হয় এইসব কাজে যোগ দেয়া, নতুবা পকেটমারের মত কাজে যোগ দিয়ে নিজের মৃত্যুকে স্বাগত জানানো। তিনি তীব্র সামাজিক বৈষম্যেরও প্রতিবাদ করেছেন। তিনি ঘৃনা প্রকাশ করেছেন ঐ সব ধনীদের প্রতি, যারা এই ছোট্ট শিশুদের দিয়ে কঠিন কাজ করায়। সামাজিক শ্রেণি যে কতটা নিষ্ঠুর, ভয়ানক রুপ ধারণ করতে পারে, তার বাস্তব প্রমাণ অনবদ্য এই মানবদলিল। প্রিয় পাঠক, পড়ার সময় আপনিও এই শাশ্বত মানবতার যাত্রী হয়ে উঠবেন।




BANGLA PDF BOOKS DOWNLOAD