Lady Chatterley's Lover

Lady Chatterley's Lover। D. H. Lawrence। bangla onubad। বাংলা অনুবাদ। লেডি চ্যাটার্লিজ লাভার। ডি এইচ লরেন্স। নিষিদ্ধ উপন্যাস। bangla pdf  

কাহিনীটি গড়িয়েছে, যৌন জীবনে অতৃপ্ত , অসুখি উচ্চবর্গের এক নারী আর তারই বেতনভোগী এক নিম্ন শ্রেনীর কর্মচারীর দেহগত মিলনের ব্যাপারগুলো নিয়ে । ধনী কিন্তু পক্ষাঘাতগ্রস্থ স্বামী ক্লিফোর্ড চ্যাটার্লীর কাছে পার্থিব জৌলুসের সব পেয়েও একজন স্ত্রীর যে আরো কিছু চাহিদা থাকে তা পুরনের বর্ণনা কাহিনীতে । যুদ্ধের আঘাতে নিম্নাঙ্গের পক্ষাঘাত নিয়ে বেচারা ক্লিফোর্ড চ্যাটার্লী দেহগত সুখ হয়তো দিতে পারেননি স্ত্রী কন্সট্যান্স চ্যাটার্লী (লেডী চ্যাটার্লী) কে কিন্তু মনোগত সুখ দিতেও তার কার্পন্য লেডী চ্যাটার্লীকে ঠেলে দিয়েছে সেই পথে যে পথ সমাজ স্বীকৃত নয় বরং ধিক্কারের । দেহগত সুখ পেতে যিনি ক্ষনেকের জন্যে বেছে নিয়েছিলেন ক্লিফোর্ড ষ্টেটের গেমকীপার অলিভার মেলর্সকে । আর সেখান থেকেই শুরু । জীবনের ঈপ্সিত আর পরম আকাঙ্খিত সুখটুকুর সব পেয়েছেন অলিভার মেলর্সের কাছ থেকে । নিজেকে পূর্ণ মনে করেছেন তিনি । উপলব্ধি করেছেন সব মানুষের জীবনের পরম সত্যটি ; শুধু মন নিয়ে বেঁচে থাকা যায়না , চাই দেহগত সতেজতাও । সম্ভোগের উত্তুঙ্গ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝেছেন, শুধু মানসিক নৈকট্য নয় ভালোবাসা হতে পারে দেহের চড়াই উৎরাইয়ে সাঁতার কেটেই ।
সেক্স বুঝতে গিয়ে পৃথিবীর মানুষ যেখানে শুধু শারীরিক আনন্দের কথাই বোঝেন , সেখানে লরেন্স দেখাতে চেয়েছেন যৌনতা কেবল "স্থুলতা" নয় বরং "পবিত্র" একটি দেহ ও মনগত প্রক্রিয়া । লরেন্স, মনসর্বস্য পঙ্গু ক্লিফোর্ড চ্যাটার্লীর জীবনের অনুভব আর তারই কর্মচারী গেমকীপার অলিভার মেলর্সের দেহসর্বস্য স্ত্রীর পশুসুলভ যৌন আচরনকে প্রকারান্তরে তুলনা করে শরীর আর মনের মিল  দেখিয়েছেন বইয়ে । তাই লেডী চ্যাটার্লী আর মেলর্সের একে অপরের প্রতি নমনীয়তা, শারীরিক আবেগ আর পারস্পারিক শ্রদ্ধা থেকে ধীরে ধীরে জন্ম নেয়া একটা ভালোবাসার কথাই তুলে ধরেছেন এখানে । দেখিয়েছেন , দেহ ও মনকে তারা আবিষ্কার করেছেন শারীরিক উষ্ণতার চাদরের ভেতর থেকেই ।
১৯৬০ সালের অক্টোবরে জনাকীর্ন ওল্ড বেইলি আদালতে ১২জন জুরীদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেয়া হয় শতাব্দীর কুখ্যাত একটি বই "লেডী চ্যাটার্লী'জ লাভার"। লিখেছেন ডি এইচ লরেন্স । শর্ত , আদালতের বাইরে বইটি নিয়ে যাওয়া চলবেনা । পড়তে হবে আদালত কক্ষেই । তারপর মতামত দিতে হবে । বইটির বিরূদ্ধে অভিযোগ পর্ণোগ্রাফির ।
অভিযোগ, সভ্যতার ধ্বজ্জাধারী বৃটেন রাষ্ট্রপক্ষের । প্রকাশক পেঙ্গইন বুকস । ১৯২৮ সালে ইতালীর ফ্রোরেন্সে প্রথম প্রকাশিত হবার পর থেকেই বইটি যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ করা হয় । আটত্রিশ বছর নিষিদ্ধ থাকার পরে স্বনামখ্যাত পেঙ্গইন বুকস "redeeming social merit" এই প্রশ্নটি তুলে বৃটেনে বইটির নিষিদ্ধকরন চ্যালেঞ্জ করেন । শুরু হয় সার্কাসের । রেমন্ড উইলিয়ামস , হেলেন গার্ডনার , ই.এম. ফস্টার , রিচার্ড হগার্ট এর মতো সে সময়ের বিখ্যাত বিখ্যাত সব একাডেমিক ক্রিটিকস আর এক্সপার্ট আর পাদ্রীদেরও জুরী লাইনে বসে থাকতে দেখা যায় । বারো দিন পরে বারোজন জুরী একবাক্যে রায় দেন "নট গিল্টি" । প্রসিকিউশানের লোকদের উপহাস আর ব্যঙ্গ করে বলা হয়, সমাজের পরিবর্তিত মূল্যবোধের সাথে তাদের কোনও পরিচয়ই নেই ।
হেরে গিয়ে ক্ষোভে-দুঃখে চীফ প্রসিকিউটর মারভিন গ্রিফিথ জোন্স জানতে চান , এটা কি সেই ধরনের একটি বই যা আপনারা আপনাদের স্ত্রী আর চাকর-বাকরদের পড়তে দিতে পারেন ?
দেহ ও মন সংক্রান্ত এই সত্যটি ছাপিয়ে মনে হয় কাহিনীর পাত্রপাত্রীর সামাজিক অবস্থানটিই বড় বেশী আঘাত করেছে তখনকার তথাকথিত সুশীল পাঠক সমাজকে । যে সমাজে তখোন উচ্চবর্গ আর নিম্নবর্গের ফারাক যোজনব্যাপী । তাই বৃটেন ক্ষুব্ধ হয়েছে । বিক্ষুব্ধ হয়েছে আমেরিকা , কানাডা , আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীনও । নিষিদ্ধ হয়েছে বইটি সে সব দেশে । বইটি ৩০ বছর নিষিদ্ধ থেকেছে কানাডায়, বইতে ব্যবহৃত ভাষা আর খোলামেলা যৌনক্রিয়ার বর্ণনার কারনে । ১৯৩০ সালে আমেরিকার সিনেটে বইটি নিয়ে তর্ক হয়েছে জোর । জাপানেও কাহিনী এক । সী- সী-ইতো নামের এক জাপানীজ ১৯৫০ সালে বইটির পূর্ণ অনুবাদ প্রকাশ করলে তা অবসীনিটি ট্রায়ালে পড়ে যায় । ১৯৫৭ সালে আদালত "গিল্টি" রায় দিয়ে সী-ইতো কে একলাখ ইয়েন আর তার প্রকাশককে আড়াই লাখ ইয়েন অর্থদন্ড প্রদান করেন ।
এরকম অবসীনিটির মামলা হয়েছে অনেক দেশেই , এমন কি ভারতেও ।
দেহ ও মন সংক্রান্ত ধ্রুবসত্যটি বলা হলেও বর্ণনা, ভাষা ও শব্দের ব্যবহার , খোলামেলা যৌনাচার বইটিকে এতো দোষনীয় করেছে । 

Popular Posts